1. Home
  2. অর্থ ও বাণিজ্য
  3. ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম বা কিভাবে করতে হয়

ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম বা কিভাবে করতে হয়

ট্রেড লাইসেন্স কি?

ট্রেড লাইসেন্স (trade license) হল ব্যবসার অনুমতিপত্র। বৈধভাবে যেকোনো ব্যবসা পরিচালনার জন্য এটি অবশ্যই করতে হবে। ব্যবসা ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা যাবে না। যেকোনো ব্যবসা করতে চাইলে প্রথমেই ট্রেড লাইসেন্স করে নিতে হবে। উদ্যোক্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে।  এটি শুধুমাত্র আবেদনকারী ব্যক্তির নামে ইস্যু করা হয় এবং এটি কোনভাবেই অন্য কারও নিকট হস্তান্তরযোগ্য নয়।

করতে কি কি লাগে
ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করতে হয়

ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন ফি ফরমে উল্লেখিত যে কোন ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। এই লাইসেন্স ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নানান কাজে লাগে। যেমন- ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খুলতে, ব্যাংক ঋণ পেতে, কোন ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য হতে, অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে- ভেন্ডরের সাথে চুক্তি সম্পাদনে, ইত্যাদি।

ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করার পূর্বে দুটি বিষয়ে ভালভাবে বিবেচনা করতে হবে। প্রথমত, যথাযথ কর্তৃপক্ষ নির্বাচন এবং দ্বিতীয়ত, ব্যবসার লাইসেন্স এর ধরন বা ক্যাটাগরি সঠিকভাবে নিরুপণ। ট্রেড-লাইসেন্স করতে কি কি লাগে, এটি করার নিয়ম বা কিভাবে করতে হয় তা সঠিকভাবে জানতে নিচের সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন।

ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করতে হয়

ট্রেড লাইসেন্সের আবেদনের পূর্বে আপনাকে প্রতিষ্ঠানের একটি নাম নির্বাচন করতে হবে। যদি আপনার পছন্দকৃত নামটি পূর্বে বরাদ্দ দেয়া না হয়ে থাকে, তাহলে আপনি ওই নামে লাইসেন্স পাবেন। আবেদন ফর্মটি ভালভাবে পূরণ করে তার সাথে ৩ কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, অফিস বা দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্র ও ভাড়ার রশিদ অথবা নিজস্ব জায়গায় হলে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদসহ কর কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করতে হবে। পরবর্তীতে সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট পাওয়া সাপেক্ষে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাইসেন্স ফি পরিশোধের মাধ্যমে লাইসেন্স ইস্যু করা হবে। সাধারনভাবে লাইসেন্স পেতে ২/৩ দিন সময় লাগবে, তবে তদন্তের প্রয়োজন হলে ৭ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করবেন, করতে কি কি লাগে অর্থাৎ করার নিয়ম সংক্রান্ত সকল তথ্য নিচে বিস্তারিতভাবে দেয়া হয়েছে।

আবেদনের যোগ্যতা

১৮ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের যেকোন প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং পুরুষ উভয়ই ট্রেড-লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে, আবেদনকারীকে অবশ্যই কোন না কোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকতে হবে।

লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ

লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত হবে আপনার ব্যবসার অবস্থান অনুযায়ী। ব্যবসার অবস্থান যদি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হয়, তবে আপনাকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন থেকে এটি সংগ্রহ করতে হবে। ব্যবসার অবস্থান সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে হলে, সংশ্লিষ্ট পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ অথবা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে এই license সংগ্রহ করতে হবে।

ঢাকায় কিভাবে আবেদন করবেন

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দুটি ভাগে বিভক্ত। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন। প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন আবার ৫টি করে আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি যে অঞ্চলে পরেছে, আপনাকে ওই অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস থেকে ট্রেড-লাইসেন্সটি (trade license bangladesh) সংগ্রহ করতে হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কোন ওয়ার্ড বা এলাকা কোন অঞ্চলে পড়েছে, তা জানতে এখানে – ক্লিক করুন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে যে ৫টি-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে, নিম্নে প্রতিটি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী-কর্মকর্তার অফিসের ঠিকানা দেয়া হল।

আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস

আঞ্চলিক অফিস, অঞ্চল ১
হাউস- ২০, রোড – ১৩/ ডি, সেক্টর- ৬, উত্তরা
ঢাকা- ১২৩০
ফোন- (৮৮০২) ৫৮৯৫১২১৩
ইমেইল- zeo-1@dncc.gov.bd

আঞ্চলিক অফিস, অঞ্চল ২
জার্মান টেকনিক্যাল সেন্টার এর পাশে, সেক্টর- ২
মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
ফোন- (৮৮০২) ৮০১১৫৫৩
ইমেইল- zeo-2@dncc.gov.bd

আঞ্চলিক অফিস, অঞ্চল ৩
হাউস- ৪, রোড- ৯০
গুলশান ২, ঢাকা- ১২১২
ফোন- (৮৮০২) ৮৮২৪৫৫১, ৯৮৯৬৩০৭, ৮৮৩৫৫৫৯
ইমেইল- zeo-3@dncc.gov.bd

আঞ্চলিক অফিস, অঞ্চল ৪
টাউন হল, সেক্টর- ১০
মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬
ফোন- (৮৮০২) ৯০০১৯৫২
ইমেইল- zeo-4@dncc.gov.bd

আঞ্চলিক অফিস, অঞ্চল ৫
কারওয়ান বাজার আড়ট ভবন
কারওয়ান বাজার, ঢাকা- ১২১৫
ফোন- (৮৮০২) ৮১১৫৮৫৯
ইমেইল- zeo-5@dncc.gov.bd

ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন

ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের কোন এলাকা বা ওয়ার্ড কোন অঞ্চলে পড়েছে, তা জানার জন্য এখানে – ক্লিক করুন

ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনকে যে ৫টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে, নিম্নে অঞ্চলসমূহের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের অ্যাড্রেস দেয়া হল।

আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস

আঞ্চলিক অফিস, অঞ্চল ১
লেভেল ৯, ওয়েস্ট ব্লক, নগর ভবন, ফুলবাড়িয়া

আঞ্চলিক অফিস, অঞ্চল ২
তিলপাপাড়া কম্যুনিটি সেন্টার, খিলগাঁও

আঞ্চলিক অফিস, অঞ্চল ৩
হাজী গনি কম্যুনিটি সেন্টার, আজিমপুর

আঞ্চলিক অফিস, অঞ্চল ৪
লেভেল ৯, ইস্ট ব্লক, নগর ভবন, ফুলবাড়িয়া

আঞ্চলিক অফিস, অঞ্চল ৫
সায়েদাবাদ (পরিবহন পুলের কাছাকাছি)

ট্রেড লাইসেন্স আবেদন ফরম

ট্রেড লাইসেন্সের (trade license bd) জন্য সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনসহ সকল সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স ফরম একই রকমের হয়। শুধুমাত্র, উপরে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের নাম উল্লেখ থাকে। পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের ফরম নিজস্ব প্যাডে নিজস্ব ফরম্যাটে প্রস্তুতকৃত হয়ে থাকে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিনসহ যেকোন সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স ফরম ডাউনলোড করতে এখানে – ক্লিক করুন

ট্রেড লাইসেন্স এর ধরন বা ক্যাটাগরি নির্বাচন

অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবসার ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে। ভুল ক্যাটাগরি নির্বাচন করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনসহ সারাদেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের জন্য সরকার নির্ধারিত (২০১৬ সালের গেজেট অনুসারে) ২৯৪ টি ক্যাটাগরিতে ট্রেড-লাইসেন্স (trade license bd) প্রদান করা হয়। ভালভাবে আপনার ব্যবসার প্রকৃতি বিবেচনা করে, নির্ধারিত ক্যাটাগরি থেকে আপনার উপযুক্ত ক্যাটাগরিটি নির্বাচন করুন।

সঠিক ক্যাটাগরি খুঁজে পেতে এখানে – ক্লিক করুন

ট্রেড লাইসেন্স ফি ২০১৮ এর তালিকা

লাইসেন্স ফি (২০১৮) কত হবে তা আপনার ব্যবসার ক্যাটাগরির ওপর নির্ভর করবে। সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ট্রেড লাইসেন্স ফি হতে পারে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী নির্ধারিত ফি (trade license fee bangladesh) সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ফি এর সাথে ১৫% ভ্যাট, সাইনবোর্ড চার্জ এবং license বইয়ের মূল্য (২০০ টাকা) যোগ হবে।

ব্যবসার অবস্থান সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে হলে, সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ক্যাটাগরি অনুযায়ী নির্ধারিত ফি জেনে নিতে হবে। সাধারনভাবে একটি license পেতে তিন দিন সময় লাগে, তবে তদন্তের প্রয়োজন হলে সাত দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী নির্ধারিত ফি (license fee bd) জানতে সিটি কর্পোরেশন ট্রেড-লাইসেন্স (trade license bangladesh) গেজেট ২০১৬ দেখতে পারেন। এখানে ২৯৪ টি ক্যাটাগরির সাথে নির্ধারিত ফী দেয়া আছে।

ট্রেড লাইসেন্স ফি তালিকা দেখতে এখানে – ক্লিক করুন

ই কমার্স ব্যবসায় ট্রেড লাইসেন্স

অনলাইন বা ই কমার্স ব্যবসার জন্য লাইসেন্স অবশ্যই করতে হবে। তবে, আপনি যদি অস্থায়ীভাবে কিছুদিনের জন্য ওয়েবসাইট অথবা ফেসবুক-এ অনলাইন ব্যবসা করতে চান সেক্ষেত্রে, লাইসেন্স না করেও হয়ত ব্যবসা করে যেতে পারবেন। কিন্তু, লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন। বিশেষ করে ভেন্ডর থেকে পণ্য নিতে, কোন ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য হতে এবং ব্যাংক লোণ পেতে সমস্যা হতে পারে। অনলাইন বা ই-কমার্স ব্যবসার লাইসেন্স “আইটি ব্যবসা” ক্যাটাগরিতে করতে হবে। অন্য কোন ক্যাটাগরিতে license করতে চাইলে তা গেজেটে বর্ণীত ক্যাটাগরি তালিকায় আছে কিনা এবং আপনার ব্যবসার সাথে কতোটুকু সম্পৃক্ত, তা ভালভাবে যাচাই করে নিবেন।

অনলাইন বা ই-কমার্স ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সের ক্যাটাগরি হবে “আইটি ব্যবসা” – ক্যাটাগরি তালিকায় ক্রমিক নং ২৫৩

ট্রেড লাইসেন্স গেজেট ২০১৬

২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ নামে একটি গেজেট প্রকাশিত হয়। যা বর্তমানে কার্যকর আছে। এই গেজেটে ২৯৪ টি ক্যাটাগরি এবং ক্যাটাগরি ভিত্তিক লাইসেন্স ফি দেয়া আছে, যা সব সিটি কর্পোরেশনের জন্য প্রযোজ্য।

গেজেট দেখতে এখানে – ক্লিক করুন

ট্রেড লাইসেন্স করতে কি কি লাগে

  • সাধারনভাবে যেসকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ট্রেড লাইসেন্সের আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হয়, সেগুলো হল- জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ৩ কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, দোকান বা অফিস নিজস্ব জায়গায় হলে ইউটিলিটি বিল এবং হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্সের ফটোকপি, দোকান বা অফিস ভাড়া হলে দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্রের ফটোকপি।
  • পার্টনারশিপ ব্যবসা হলে, ১৫০/৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে পার্টনারশিপের চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে। লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে, মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেলস ও সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন দিতে হবে।
  • ফ্যাক্টরি বা কারখানার trade-license এর ক্ষেত্রে, প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠান বা কারখানার পার্শ্ববর্তী অবস্থান ও স্থাপনার নকশাসহ ওই স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, ওপরে বর্ণীত সব কাগজপত্রের সঙ্গে পরিবেশের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ও ফ্যাক্টরি বা কারখানার পার্শ্ববর্তী স্থান বা স্থাপনার সম্পূর্ণ বিবরণসহ নকশা জমা দিতে হবে।
  • সিএনজি স্টেশন অথবা কোন দাহ্য পদার্থ ব্যবসার ক্ষেত্রে, বিস্ফোরক সনদ, ফায়ার সার্ভিসের ছারপত্র এবং পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র জমা দিতে হবে।
  • এছাড়াও, প্রাইভেট হাসপাতাল অথবা ক্লিনিকের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমতিপত্র, ছাপাখানা অথবা আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে ডেপুটি কমিশনারের অনুমতিপত্র, রিক্রুটিং এজেন্সির ক্ষেত্রে মানবসম্পদ রফতানি অধিদপ্তর প্রদত্ত লাইসেন্স, অস্ত্র ও গোলাবারুদের ক্ষেত্রে অস্ত্রের লাইসেন্স, ওষুধ অথবা মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে ড্রাগ লাইসেন্স, ট্রাভেলিং এজেন্সির ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র জমা দিতে হবে।

ট্রেড-লাইসেন্স ফরম পূরণের নিয়ম

বাংলাদেশের সকল সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সের ফর্ম একই রকম, শুধুমাত্র ফর্মের উপরের অংশে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের নাম উল্লেখ থাকে। কিভাবে লাইসেন্সের আবেদন ফরম পুরন করবেন তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হল।

ট্রেড লাইসেন্স
আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম
  • প্রথমে ১ থেকে ৬ নম্বর ঘর পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম, আবেদনকারীর নাম, আবেদনকারীর পিতা অথবা স্বামীর নাম, আবেদনকারীর মাতার নাম, আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা এবং আবেদনকারীর বসবাসের ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করুন।
  • পার্টনারশিপ বা যৌথ (২জন মালিক হলে) ব্যবসায় লাইসেন্সটি ২জনের নামে ইস্যু হবে। এক্ষেত্রে ২জনের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং ১ম থেকে ৪র্থ ঘরে ২ জনের তথ্যই পাশাপাশি পূরণ করতে হবে। ৫ এবং ৬ নং ঘরে আপনি ইচ্ছা করলে ১ম আবেদনকারীর তথ্য দিতে পারেন, আবার ২জনের তথ্যও দিতে পারেন। ২জনের অধিক মালিকের ক্ষেত্রে, কোম্পানি বা পার্টনারশিপ ফার্ম মনোনীত ব্যক্তির নামে trade-license ইস্যু হবে।
  • ৭ম ঘরে আবেদনকারীর প্রস্তাবিত ব্যবসায়ের ঠিকানা সঠিকভাবে লিখতে হবে। ৮ এবং ৯ নাম্বার ঘরে জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার এবং আবেদনকারীর জাতীয়তা পূরণ করুন।
  • এবার ১০ম ঘর অত্যন্ত সাবধানতার সাথে পূরণ করতে হবে। কি ধরনের ব্যবসা অর্থাৎ ব্যবসার ক্যাটাগরি পূরণ করুন। অবশ্যই ক্যাটাগরি বাংলাতে এবং গেজেটে যেভাবে লেখা আছে, সেভাবে পূরণ করতে হবে।
  • ১১ ও ১২ নাম্বার ঘরে ব্যবসা আরম্ভ করার তারিখ এবং ব্যবসায়ের মূলধন কত তা লিখুন। ব্যবসায়ের মূলধন মূলত কোম্পানির ক্ষেত্রে পূরণ করতে হবে। ব্যবসায়ের নামে আয়কর প্রদান করে থাকলে ১৩ নাম্বার ঘরে টিন নাম্বার পূরণ করুন।
  • ১৪ নাম্বার ঘরে আপনার ব্যবসা বা দোকান ঘরের স্থান, নিজস্ব নাকি ভাড়া তা টিক চিহ্ন দিয়ে পূরণ করুন। ১৫ নাম্বার ঘরে সাইনবোর্ড আছে কিনা তা হ্যাঁ অথবা না দিয়ে পূরণ করুন। ১৬ নাম্বারে আপনার ব্যবসায়ের প্রস্তাবিত দোকান বা ব্যবসায়ের স্থান, পৌর বা সরকারি ভূমির উপর অবস্থিত কিনা তা টিক দিয়ে পূরণ করুন। ১৭ নাম্বারে আপনার দোকান বা অফিস কততলায় অবস্থিত তা টিক দিয়ে পূরণ করতে হবে। সবশেষে, ১৮ নাম্বার ঘরে আবেদনকারীর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি লিখুন।
  • সবশেষে স্পষ্টাক্ষরে আবেদনকারীর নাম, স্বাক্ষর ও তারিখ লিখুন এবং সংযুক্তকৃত কাগজের নামের বাম পাশে টিক চিহ্ন দিন। সকল সংযুক্ত কাগজপত্র ওয়ার্ড কাউন্সিলর অথবা প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে। এবার ছবি সংযুক্ত করুন।

ট্রেড লাইসেন্স আইন বা বিধিমালা

একটি trade license শুধুমাত্র একটি ব্যবসায় ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ, যে ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয়েছে শুধু সেই ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য এটি ব্যবহার করা যাবে অন্য কোনো নামে অথবা অন্য কোন ক্যাটাগরির ব্যবসার জন্য এটি ব্যবহার করা যাবে না। নতুন ব্যবসার জন্য আবার আবার নতুন করে এটি করতে হবে।

একইভাবে, একটি trade-license শুধুমাত্র একজন অর্থাৎ যার নামে লাইসেন্সটি ইস্যু করা হয়েছে, তিনি ব্যবহার করতে পারবেন। এটি কোন অবস্থাতেই হস্তান্তরযোগ্য নয়।

ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ২০১৮

সাধারনভাবে প্রতিটি Trade License ১ বছর মেয়াদে ইস্যু হয়। আপনি যে মাসেই license গ্রহন করেন না কেন, লাইসেন্সের মেয়াদ পরবর্তী জুন মাসে শেষ হবে। একসাথে সর্বোচ্চ ৫ বছরের মেয়াদের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করা যায়, তবে ফী কম বেশি হলে তা পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে। এটি নবায়নের জন্য ৩ মাস সময় পাওয়া যায়, জুন মাসে যেহেতু মেয়াদ শেষ হয়, তাই অবশ্যই জুলাই, অগাস্ট এবং সেপ্টেম্বর এই ৩ মাসের মধ্যেই লাইসেন্সটি নবায়ন করতে হবে। নবায়নের জন্য বর্তমান ট্রেড লাইসেন্সসহ আঞ্চলিক কর কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

আপনি যে মাসেই লাইসেন্স করেন না কেন, পরবর্তী জুন মাসেই লাইসেন্সটির মেয়াদ শেষ হবে। এবং, জুন পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যেই এটি নবায়ন করতে হবে।

ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি ২০১৮

সাধারনভাবে লাইসেন্স নবায়ন ফি (২০১৮) নতুন লাইসেন্স ফি এর সমান হবে। ফি’র সাথে ১৫% ভ্যাট এবং সাইনবোর্ড চার্জ যুক্ত হবে। কোন ব্যাংকে ফী জমা দিবেন তা নবায়ন ফর্মে উল্লেখ থাকবে।

লাইসেন্স সমর্পণ

যেকোনো কারনে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে অথবা ব্যবসাটি আর চালাতে না চাইলে, সাধারনভাবে আমরা লাইসেন্সটি সমর্পণের কথা চিন্তা করি না। License সমর্পণ না করলে আপনি পরবর্তীতে আইনগত ঝামেলায় পরতে পারেন। সমর্পণের কোন নির্ধারিত ফি নেই। আপনি আর ব্যবসাটি করতে চাচ্ছেন না অথবা ব্যবসাটি বন্ধ হয়ে গেছে, এরকম কোন কারন প্রদর্শন করে, কর কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদনপত্র লিখতে হবে। আবেদনপত্র সহ লাইসেন্সটি সমর্পণ করতে হবে। আবেদনপত্রের একটি কপি, তারিখ এবং স্বাক্ষরসহ আপনাকে ফেরত দেয়া হবে। এই কাগজটি ভালভাবে সংরক্ষন করুন।

লাইসেন্স বাতিল

কোন মিথ্যা বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করলে অথবা লাইসেন্সে উল্লিখিত শর্ত ও সিটি করপোরেশনের আইন এবং বিধি ভঙ্গ করলে license বাতিল হতে পারে, আবার লাইসেন্স গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। তবে এমন কোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে অবশ্যই গ্রহীতাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেয়া হবে।

ধন্যবাদ

আর্টিকেলটি লিখতে সার্বিক সহায়তাদানের জন্য BreakBite, বিশেষ করে আসিফ আহনাফ ভাইকে ধন্যবাদ। BreakBite স্টার্টআপ ব্যবসা সংক্রান্ত যেকোনো লিগ্যাল সাপোর্টের জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান। ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা সাহায্যের জন্য BreakBite এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এ ইনবক্স করতে পারেন অথবা ইমেইল করতে পারেন support@breakbite.com এই ঠিকানায়। সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ

• লাইসেন্সের আবেদন ফর্ম ডাউনলোড করতে – এখানে ক্লিক করুন
• Trade-license গেজেট দেখতে – এখানে ক্লিক করুন
• ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ওয়েবসাইট ভিসিট করতে – এখানে ক্লিক করুন
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ওয়েবসাইট ভিসিট করতে – এখানে ক্লিক করুন
• ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ও এলাকাসমূহ, কোনটি কোন অঞ্চলে পড়েছে তা দেখতে – এখানে ক্লিক করুন
• ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ও এলাকাসমূহ, যে অঞ্চলে পড়েছে তা সঠিকভাবে খুঁজে পেতে – এখানে ক্লিক করুন

লেখাটি কি আপনার জন্য সাহায্যকারী ছিল?

আরও দেখতে পারেন

error: লেখার সত্ত্ব সংরক্ষিত !!