শিশু মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়ে শিশুর জন্মগত ত্রুটির (Birth defects) সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষত গর্ভকালীন (Pregnancy) অবস্থার প্রথম ৩ মাসেই অধিকাংশ জন্মগত ত্রুটি দেখা দেয়। শিশু  জন্মগত ত্রুটি নবজাতক শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ বা উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। অধিকাংশ শিশুর জন্মগত ত্রুটি শিশুর জন্মের প্রথম বছরের মধ্যেই দেখা যাবে। জন্মের পূর্বে, জন্মের সময় অথবা জন্মের পরে যেকোন সময়েই এই ত্রুটি দেখা দিতে পারে। কিছু ত্রুটি সহজেই চোখে পড়ে কিন্তু কিছু ত্রুটি পরীক্ষার পর ধরা পড়ে। নবজাতক শিশুর  জন্মগত ত্রুটি অল্প থেকে মারাত্মক হয়ে অনেক শিশু মারাও যায়।


নবজাতক শিশুর সাধারণ জন্মগত ত্রুটিসমূহ(Birth defects) কি কি?

হৃদযন্ত্রের ত্রুটি, মেরুদন্ড এবং মস্তিষ্কের ত্রুটি, ঠোঁট এবং মুখের তালুর ত্রুটি ও ছেলে শিশুদের যৌনাঙ্গের ত্রুটি।


শিশুর জন্মগত ত্রুটি শুরুর প্রক্রিয়া

অধিকাংশ জন্মগত ত্রুটির (Birth defects) কোন কারণ জানা যায় না। বংশগত ও পারিপার্শ্বিক কারণে এবং গর্ভকালীন সময়ে গর্ভবতীর সঠিক যত্নের অভাব এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক এসিড না খেলে গর্ভবতী্র জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।


মাতৃগর্ভেই শিশুর জন্মগত ত্রুটির প্রক্রিয়া শুরু হয়। জন্মগত ত্রুটির কারণগুলো নিম্নরূপ :

  • বংশগত কারণ।
  • পরিবেশগত কারণ। যেমনঃ ধূমপান, মদপান
  • গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী  পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক এসিড না খেলে।
  • গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মহিলার কোন সংক্রামক অসুখ বা জ্বর হলে।
  • গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী অনিরাপদ কোন ঔষধ খেলে।

কোথায় চিকিৎসা করাবেন

যে কোন সরকারি অথবা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু-শেখ-মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়িত সরকারী অথবা বেসরকারী হাসপাতালসমুহে।

জানতে চাই  শিশুর রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে মায়ের করনীয়

জন্মগত ত্রুটি কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়

  • গর্ভধারণের আগে গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকতে হবে।
  • গর্ভধারণের আগে নিজের শারীরিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • গর্ভধারণের আগে অস্বাভাবিক মোটা, বহুমূত্র/ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • গর্ভধারণের আগে এবং গর্ভকালীন সময়ে প্রতিদিন একটি করে 400 মিলি.গ্রাম ফলিক এসিড ঔষধ খেতে হবে।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভকালে কোন ঔষধ না খাওয়া।
  • গর্ভবতী মহিলার হালকা ব্যায়াম করতে হবে।
  • গর্ভবতী মহিলার সুষম খাদ্য গ্রহণ।
  • গর্ভবতী মহিলার রাসায়নিক দ্রব্য নাড়াচাড়া থেকে বিরত থাকা।
  •  ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সংক্রামক প্রতিষেধক গ্রহণ।
  • গর্ভবতী মহিলার ধূমপান, মদপান থেকে বিরত থাকা।
  • গর্ভবতী মহিলার প্রচুর বিশ্রাম করা।

যাদের জন্মগত ত্রুটিযুক্ত (Birth defects) সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা রয়েছে

জন্মগত ত্রুটিযুক্ত (Birth defects) সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা যাদের রয়েছে তারা হলেন :

  • অল্প বয়সে গর্ভধারণ করলে।
  • পঁয়ত্রিশ বছর বয়সের বেশি বয়সী মহিলাদের গর্ভধারণ করলে।
  • গর্ভকালীন সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কিছু ঔষধ এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • বংশগত কারণ।
  • গর্ভকালীন সময়ে হাম, মামস, ছোঁয়াচে রোগ হলে।
  • ধূমপান ও মদপান।