গৃহসজ্জায় নান্দনিকতার পরিবেশ তৈরির এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ হচ্ছে ঘরের গাছ। বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে ঘরের ভেতরে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। ঘরে গাছ রাখার কারণে যাঁদের ঘরে মশার উৎপাত একটু বেশি, তাঁরা কিছুটা ঝামেলায় পড়েন। মশা তাড়ানোর উপায় জেনে নিন।

টবের গাছে মশা হানা দেবেই। এছাড়া ঘরের ভেতরে যে স্থানগুলোতে আলো কিছুটা কম থাকে সেখানেও মশার উপদ্রব বেশি হয়ে থাকে। এজন্য ঘরের যেদিকটায় পর্যাপ্ত পরিমানে আলো-বাতাস আসে সেখানটায় গাছগুলো রাখা উচিৎ। তাছাড়া ঘরের ভেতরে রাখা টবগুলো খুব কাছাকাছি না রাখলেই ভালো হয়।

ঘরের গাছে মশার উপদ্রব দূর করতে চাইলে গাছের ডালপালাগুলো একটু বড় হওয়া মাত্রই ছেঁটে দিতে পারেন। লতানো গাছগুলো মার্চ-এপ্রিল মাসে কয়েক দিনের জন্য বাইরে রাখতে পারেন। মশার উপদ্রব কমলে একটু লতানো গাছগুলো আবার ঘরে এনে রাখতে পারেন। টবের নিচে পানি জমার জন্য আলাদা পাত্র রাখলে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কারণ টবের জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার হয়।

যারা বাসায় ইনডোর প্ল্যান্টস পানির মধ্যে রাখেন, তাঁরা অন্তত তিন দিন পরপর পানি পরিবর্তন করে দিবেন। আর সম্ভব হলে পানির গাছগুলোকে মার্চ-এপ্রিল মাসে বড় পাত্রে না রেখে বোতলের মধ্যে রাখুন এবং বোতলের মুখে তুলা গুঁজে দিবেন। এতে মশা ভেতরে ঢোকার সুযোগ পাবে না এবং মশা পানিতে বংশবিস্তার করতে পারবেনা।

সকালবেলায় জানালা খুলে গাছগুলোকে ভালো করে নাড়া দিন এবং সন্ধ্যার আগেই ঘরের সব জানালা বন্ধ করে দিন। এতেও মশার উপদ্রব দূর হবে। বছরের অন্য সময় সপ্তাহে অন্তত ১দিন ঘরের গাছগুলোকে রোদে দিলে তা ভালো থাকবে। তবে মার্চ-এপ্রিল মাসে অন্তত ২ দিন পর পরই গাছগুলোকে রোদে দিবেন। এই সময় ৩-৪ ঘণ্টা টবগুলোকে রোদে রাখবেন।
প্রতিদিন গাছের পাতার ধুলা পরিষ্কার করতে পারেন। নজর রাখতে হবে, পাতার কোথাও যাতে ময়লা না জমে। বিশেষ করে গাছের পাতা বা ডাল মরে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেই পাতা বা ডাল ভেঙে দিবেন।
এত কিছু করার পরও যদি আপনার ঘরের গাছে মশার উপদ্রব না কমে, তবে পানির সঙ্গে মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে গাছের পাতায় স্প্রে করবেন। আশা করি সুফল পাবেন।

জানতে চাই  বারান্দায় বাগান - এক চিলতে সবুজের জন্য