বারান্দায় গ্রীষ্মের এই গরমে শীতল পরশ পেতে, ঘরের বারান্দায় প্রশান্তির আমেজ পেতে একচিলতে সবুজের সম্ভার করা যেতে পারে বারান্দায় বাগান করে। ব্যস্ত দিন শেষে ক্লান্ত মনে ঘরে ফিরলেও নিজের বাসার গেটের সামনে দাঁড়াতেই মনটা কেমন সতেজ হয়ে যায়। এটি সম্ভব কেবল বাড়ির সামনে এক চিলতে সবুজের জন্য। প্রকৃতির সান্নিধ্যে শীতল পরিবেশে প্রশান্তির আমেজ পেতে জমে উঠতে পারে সন্ধ্যাকালীন আড্ডা আর অতিথি অ্যাপায়ন।

এখনকার ফ্ল্যাটবাড়ির বারান্দাগুলো আয়তনে ছোটও হয় আবার টবে গাছ রাখলেও বারান্দার অনেকটা জায়গা দখল করে নেয়, এই কারণে বারান্দাকে আরও ছোট দেখায়। এজন্য যাঁদের বাসায় ছোট বারান্দা রয়েছে, তাঁরা বারান্দার মেঝেতে কৃত্রিম বাগানের ব্যবস্থা করে জায়গা বাঁচাতে পারেন। একদিকে যেমন বারান্দার জায়গা বাঁচবে, অন্যদিকে বারান্দায় বসেই উপভোগ করা যাবে বারান্দায় বাগান এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

বারান্দার যে দিক থেকে আলো-বাতাস অনায়াসে ঢোকে, সেই দিকের মেঝেতে কৃত্রিম বাগানের জন্য সিমেন্ট দিয়ে অর্ধবৃত্তাকার বা পিয়ানোর আকৃতি স্ল্যাব বানিয়ে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে স্ল্যাবের দেয়ালের উচ্চতা যাতে এক ফুটের বেশি না হয়। স্ল্যাবের ভেতরের মেঝেতে পলিথিন দিয়ে নারিকেলের আঁশ বিছিয়ে দিবেন। নারিকেলের আঁশের ওপর প্রাকৃতিক সার মেশানো মাটি দিয়ে লাগাতে পারেন মানিপ্ল্যান্ট, জিনিয়া, ঘৃতকুমারী, পামট্রি, পাতাবাহারের মতো গাছ। ইচ্ছে হলে দেশি ফল ও ফুলের গাছও লাগাতে পারেন। তবে বারান্দাজুড়ে বাগানের ক্ষেত্রে একটু বেশি পরিচর্চা দরকার।
বারান্দায় বাগান সাজাতে গাছপালার পাশাপাশি প্রকৃতি থেকে সরাসরি নেয়া উপাদানগুলো ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। এতে বারান্দাকে বদ্ধ কোনো জায়গা মনে হবে না।
বারান্দাজুড়ে বাগানের আমেজ আনতে দেয়ালজুড়ে র্যাষ্টিক টাইলসের ব্যবহার করতে পারেন। দেয়ালে র্যাষ্টিক টাইলস ব্যবহার করা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে বাঁশের চিক দেয়ালগুলোতে ঝুলিয়ে দিতে পারেন। আর বারান্দায় বসার ব্যবস্থার জন্য হোগলা পাতার চেয়ার কিংবা মেঝেতে বসতে চাইলে শতরঞ্জি ব্যবহার করতে পারেন।

জানতে চাই  ঘরের গাছের মশা তাড়ানোর উপায়

রাতের বেলায় বারান্দায় আলোর জন্য বারান্দার গাছগুলোর মাঝে মাটির তৈরি ল্যাম্পশেডের ওপরে মাটির কলসিতে তৈরি পানির ফোয়ারা বসিয়ে দিতে পারেন। ইচ্ছে হলে ল্যাম্পশেডের ওপর ফোয়ারার পরিবর্তে আপনার শখের হাঁড়িও রাখতে পারবেন। সবুজ গাছগুলোর ওপর মাটির ফোয়ারা থেকে পড়া পানির শব্দে কিছুটা হলেও স্বস্তির পরশ পাওয়া যাবে।

বারান্দাটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে বারান্দার এক কোনায় নিচু নকশার টেবিল বসিয়ে সামনে পেছনে ফুলের গাছ রাখতে পারেন। ফুলের গাছে জুড়ে দিতে পারেন কাঠের পাখি, ঝুড়ি। হোগলা পাতার জগ, ফুলদানি, মাটির ফোয়ারা টেবিলে রাখতে পারেন।
সবুজ পরিসর রাখা পরিবেশের জন্য জরুরি। তবে দিন দিন আমাদের চোখের সামনে থেকে সবুজের পরিমাণ যেভাবে কমে যাচ্ছে। তাই শুধু নান্দনিকতাই নয়, বারান্দায় বাগান করা আমাদের জন্য উপকারীও।