ঘরের ভেতরেই শিশু খেলবে, পড়বে, সে নিজের মতো সময় কাটাবে শিশুর কল্পনার মতো এমন একটা জগৎ গড়ে তোলা যেতে পারে। ঘরটা যে শিশুর নিজস্ব, সেই অনুভূতিটাও সে পাবে। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে শিশুদের জন্য বাড়ির ভেতরেই নিজস্ব খেলাঘর বা খেলার ঘরের ধারণাটা বেশ জনপ্রিয়।

শিশুদের খেলার জন্য  খেলাঘর বা নিজস্ব খেলার ঘরের আয়োজন করতে চাইলে আলাদা ঘর দিলে ভালো হয়, তবে তা সম্ভব না হলে বাসার যে ঘরের জায়গা একটু বেশি, সেই ঘরের ভেতরে এমন খেলাঘর এর আয়োজন করতে পারেন।

শিশুর ঘরটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকা উচিত। শিশুর খেলার ঘরের জানালায় অবশ্যই গ্রিল ও নেট ব্যবহার করা উচিত৷এতে শিশুটি দুর্ঘটনার ও মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাবে। এমন কোনো কিছু শিশুর খেলাঘরে রাখা উচিত নয়, যে কারণে শিশুটি দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে। ধারালো বা কাচের কোনো জিনিস শিশুর ঘরে ব্যবহার করা উচিত নয়৷ এমনকি বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বা ওষুধ যেন শিশুর হাতের নাগালের বাইরে থাকে৷

বাচ্চাদের ঘরে খুব বেশি আসবাব না রাখাই ভালো। ঘরের ভেতরে একটু নিচু বিছানা আর দেয়ালজুড়ে বাচ্চাদের খেলনা গুছিয়ে রাখার জন্য ওয়াল কেবিনেট রাখতে পারেন। এছাড়াও শিশুর ঘরের খেলনা গুছিয়ে রাখার জন্য নাইলনের জাল দিয়ে তৈরি টয় নেট ব্যবহার করতে পারেন।

এক্ষেত্রে প্রথমেই ঘরের দেয়ালের রঙের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। আপনার ছেলে শিশু হলে সবুজ কিংবা হলুদ রং বেছে নিতে পারেন। আর আপনার মেয়ে শিশু ঘরের দেয়ালে গোলাপি রংই বেশি মানাবে। তবে ইচ্ছে হলে একদিকের দেয়ালে ওয়াল পেইন্টিং করতে পারেন। কম বাজেটের মধ্যেই শিশুর জন্য খেলাঘর এর আয়োজন করতে চাইলে, দেয়ালজুড়ে বিভিন্ন কার্টুন আঁকা ওয়ালপেপার লাগাতে পারেন। একটা বোর্ড বানিয়ে স্টিকার ও পোস্টার লাগাতে পারেন৷

জানতে চাই  Child blindness - শিশু অন্ধত্ব, কারন ও প্রতিরোধের উপায়

ঘরের কোণে শিশুর রং, পেনসিল, বই রাখতে তাক তৈরি করে দিতে পারেন৷ এছাড়া শিশুকে নিজের খেলনা, রং, পেনসিল, বই নিজেকে গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করাতে হবে৷ এতে করে ছোটবেলা থেকে আপনার শিশুটি স্বাবলম্বী হবে৷ নিজে কিছু করতে পারলে সেও খুশি হবে৷

বিছানার ওপরের দিকে দেয়ালে বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা আনন্দঘন কিছু মুহুর্তের ছবি লাগিয়ে রাখতে পারেন। খাওয়া বা ঘুম পাড়ানোর সময় পরিবারের সদস্যদের ছবি দেখিয়ে গল্প করলে তা বাচ্চাদের মনে পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে তুলতে সাহায্য করবে।

কোনো শিশুর যদি শ্বাসকষ্ট সমস্যা থাকে, তাহলে শিশুর খেলার ঘরটিতে কার্পেট ব্যবহার করার পরিবর্তে মাদুর বা শীতলপাটি ব্যবহার করা যায়৷ বসার জন্য ফোম দিয়ে নিচু বসার জায়গা বানানো যায়; যাতে শিশুটির মেঝের ঠান্ডা থেকে শরীর খারাপ না করে৷

শহুরে শিশুরা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ বেশি পায় না, তাই ঘরের ভেতরেই এই সুযোগ করে দিলে বেশ ভালো হয়। এক্ষেত্রে আপনি দেয়ালজুড়ে লাগিয়ে দিতে পারেন সূর্য, পোকা, মাছ, ফুল, প্রজাপতির আকারে তৈরি আলোর বিভিন্ন শেড। যদি সম্ভব হয় তাহলে ঘরের ছাদে ফলস সিলিংয়ে কাঠের কাঠামো বসিয়ে সেখান থেকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন আপনার শিশুর পছন্দমতো পশুপাখির খেলনা।

এছাড়া শিশুর ঘরের চাদর ও পর্দায় ব্যবহার করতে পারেন ইচ্ছে মতো ফুলেল মোটিফ। ঘরের ছাদ থেকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন সাদা রঙের মশারি। আপনার শিশুর পছন্দমতো কাপড়ের ফ্রেমে বৃত্তাকারভাবে মশারির নেট জোড়া লাগিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে সুন্দর নান্দনিক এই মশারি।

জানতে চাই  শিশুর রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে মায়ের করনীয়

আর এভাবেই আপনার ছোট শিশুর ঘরটিকে অল্প কিছু জিনিসের ব্যবহার করে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তুলতে পারেন খুব সহজেই।