ক্যালসিয়াম আমাদের দেহের হাড় মজবুত করার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। আমাদের শরীরের প্রায় ৯৯% ক্যালসিয়াম থাকে হাড়ে, কিছু থাকে দাঁতে, কিছু সফট টিস্যুতে এবং কিছু ফ্লুইডের মধ্যে থাকে। তাই হাড় মজবুতভাবে গঠনে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যাক্তির ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে গর্ভাবস্থায় একজন মেয়ের এবং যেসব মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাঁদের বেলায় ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের চেয়ে আরো বেশি ক্যালসিয়াম খাওয়ার প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি ভিটামিন ডি-ও খেতে হবে। কারণ ভিটামিন ডি শরীরের ক্যালসিয়ামকে শোষণ করতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ডি কেবল সূর্যের আলো থেকে পাওয়া যায়। ভোরবেলার সূর্যের আলোয় ও বিকেলবেলার সূর্যের আলোতে বেশি ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। ক্যালসিয়াম দেহের মাংসপেশির সম্প্রসারণ-সঙ্কোচনে সহযোগিতার সাথে গ্রোথ হরমোনকে সক্রিয় রাখতেও সাহায্য করে থাকে।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার সম্পর্কে জেনে নিনঃ

দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য
দুধ ও দুধ দিয়ে তৈরি খাবার সবচেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাদ্য। দুধ, দই, মাখন, টফু এবং দুগ্ধ জাতীয় খাবার থেকে প্রচুর ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

মাছ,মাংস ও প্রোটিন জাতীয় খাদ্য
গরু, খাসি ও মুরগির মাংস, ডিম, কলিজা, এবং ছোট মাছের কাঁটায়ও রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। তবে মাছের মধ্যে মলা, কাচকি, মাগুর, শিং, কই, কোরাল ও সামুদ্রিক মাছে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি।

বিভিন্ন ধরনের ঔষধি
তুলসী পাতা, পুদিনা পাতাতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি।

জানতে চাই  ওজন বারানোর উপায়

শাকসবজিতে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম
কচুর শাক, পালং শাক, কলার মোচা, কাঁচকলা, কচুর লতি, চালকুমড়া, কচু, শালগম, সজনে ডাঁটা, বাধাকপি, মটরশুঁটি, মিষ্টি আলু, মাশরুম, লেটুসপাতা, ঢেঁড়স, ধনেপাতা, ধুন্দুল, করলা ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম রয়েছে।

ফল ক্যালসিয়ামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস
সাইট্রাস জাতীয় ফল কমলালেবু, পেয়ারা, কাঠবাদাম, তরমুজ, জলপাই, কাজুবাদাম, আপেল, আখরোট বাদাম, খেজুর, কলা, পাকা পেঁপে, আনারস, আঙ্গুর, কাঁঠাল, লিচু, আম, জাম, স্ট্রবেরি ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

মসলা জাতীয় খাবার
দারুচিনি, রসুন, পেঁয়াজ, ইত্যাদি ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার। এই সকল মসলা জাতীয় খাবার হাড় গঠনে সহায়তা করে।

শস্য ও ডাল জাতীয় খাদ্য
সাদা ভাত, কাবলি ছোলা, মটরশুটি, তিল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে।যা আমাদের দেহের হাড় মজবুতে সহায়তা করে থাকে।

ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে কী হয়
ক্যালসিয়ামের অভাব শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

  • ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেট রোগ হয়। রিকেট রোগের কারণে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া ভিটামিন ডি-এর দীর্ঘস্থায়ী অভাবে হাড়ের ক্ষতি করে।
  • ক্যালসিয়ামের দীর্ঘস্থায়ী অভাবে হাড় ফ্র্যাকচার হয়। যারা দীর্ঘস্থায়ী ক্যালসিয়ামের অভাবে ভোগে তারা একপর্যায়ে হাড় ফ্র্যাকচারের সমস্যায় পড়তে পারেন। মেয়েদের মনোপোজের (ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া) পর হাড় ফ্র্যাকচার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই বয়ঃসন্ধিকালে অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিৎ।
  • ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্টিয়োপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের রোগ হয়। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি-এর অভাব, মদ্যপান ও ধূমপানের কারণেও এই হাড় ক্ষয়ের রোগ হতে পারে। এই রোগ প্রতিকারে চিকিৎসকরা সাধারণত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দিয়ে থাকেন।
  • হাড়ের গঠন ও শক্তিবর্ধনে বেশির ভাগ ক্যালসিয়াম কাজে লাগে। খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার না থাকলে হাড়ের গঠন দুর্বল হয় এবং শক্তি কম থাকে।
    ক্যালসিয়ামের অভাবে হাইপোক্যালসিয়মিয়া হয়ে পেশির টিট্যানি রোগ হয়।
  • ক্যালসিয়ামের অভাবে মুখে লাল বা গোলাপি রঙের র্যাশ হতে পারে।
জানতে চাই  কিভাবে নখের কোনা ওঠা সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন?

তাই এসব সমস্যা সমাধানে খাদ্য তালিকায় অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।