চুল পরিষ্কার করতে আপনারা নিয়মিত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করেন। তবে ব্যক্তি ভেদে চুলের ধরণ একেক রকম হওয়ায় শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারের ব্যবহার আলাদা হওয়া দরকার। তাই আপনার জেনে নেওয়া জরুরি যে ব্যক্তি ভেদে চুলের ধরণ অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

কেমন শ্যাম্পু ব্যাবহার করবেন?

  • আপনার চুল তৈলাক্ত হলে প্লেন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। যেসব শ্যাম্পু দেখতে স্বচ্ছ দেখায় তবে বুঝবেন প্লেন-শ্যাম্পু। তৈলাক্ত চুল শ্যাম্পু করার পর নেতিয়ে থাকে, তাই আপনার চুলে শ্যাম্পু করার সময় শ্যাম্পুর সঙ্গে সামান্য পরিমাণ বেকিং পাউডার মিশিয়ে নিবেন। বেকিং পাউডার মিশিয়ে নিলে চুলের গোড়ার অতিরিক্ত তেল চুষে নেয়। ডিটারজেন্ট বেস-শ্যাম্পু বা ঘন ক্রিমের মতো দেখতে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না।
  • আপনার চুলে স্বাভাবিক মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন, এটি চুলের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে থাকে।
  • স্ক্যাল্পে র‌্যাশ, চুলকানি হবে না এরকম শ্যাম্পু বেছে নিবেন।
  • আপনার চুল শুষ্ক হলে ময়েশ্চারাইজার ছাড়া ক্লিয়ার-শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। ওমেগা থ্রি আছে এমন ময়েশ্চারাইজার শ্যাম্পু ব্যবহার করার জন্য বেছে নিবেন।
  • আপনার চুল কালারড হলে কালারড চুলের স্ক্যাল্প পরিষ্কার করার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কালারড চুলের জন্য নির্ধারিত শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।
  • আপনার চুল কোঁকড়ানো হলে কোঁকড়ানো চুলের জন্য ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু বেছে নিতে পারেন। সপ্তাহে অন্তত দুবার অলিভ অয়েল বা কাস্টার অয়েল ব্যবহার করবেন। সকালে চুলে শ্যাম্পু করলে চুলের ময়েশ্চার অনেকটা বজায় থাকে।
  • আপনার চুল পাতলা হলে দেখবেন পাতলা চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করার পর সহজে নেতিয়ে যায়। লেবু, ফলের রসসমৃদ্ধ যেসব শ্যাম্পু রয়েছে সেই শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।কারণ ফ্রুট এসিড চুলের তেল-ময়লা পরিষ্কার করে ও চুলের ভলিউম বাড়াতে সাহায্য করে।
জানতে চাই  ৫টি সহজ ও কার্যকরী চুল পাকা রোধের উপায়

কেমন কন্ডিশনার ব্যাবহার করবেন?

  • আপনার চুল রুক্ষ হলে রুক্ষ চুলে ময়েশ্চার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ হেয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন। ভিটামিন-ই , অ্যালোভেরাসমৃদ্ধ হেয়ার কন্ডিশনারও শুষ্ক চুলের জন্য ভালো।
  • আপনার কোঁকড়ানো চুলের স্ক্যাল্পের অয়েল চুলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এসে পৌঁছায় না। আপনার কোঁকড়ানো চুলের জন্য ডিপ কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন, যা চুলের ময়েশ্চার বজায় রাখতে সাহায্য করে। জোজোবা অয়েল, অ্যাভোকাডোসমৃদ্ধ হেয়ার কন্ডিশনারও ব্যবহার করতে পারেন।
  • আপনার চুল তৈলাক্ত হলে তৈলাক্ত চুলে জন্য ফ্যাটি এসিড কম থাকে এমন কন্ডিশনার ভালো, যা চুলের সৌন্দর্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • কালার চুলের জন্য বিউটি এক্সপার্টদের পরামর্শ অনুযায়ী যেসব কন্ডিশনার বাজারে পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করবেন।এক্ষেত্রে হারবাল কন্ডিশনার কালার চুলের জন্য আদর্শ।
  • আপনার চুল বেশ কয়েক দিন চুল পরিষ্কার করার পর যদি জট না পড়ে বা ভেঙে না যায়, তাহলে আপনার চুল স্বাভাবিক চুল। স্বাভাবিক চুলের জন্য লিভ অন কন্ডিশনার ভালো কাজে দেয়।